
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৮ জানুয়ারি ঘোষণা করেছেন যে ২০২৫ সালে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান( Kaziranga National Park)থেকে একটি গণ্ডার শিকারির(Rhino Poaching)I হাতে নিহত হয়নি। তিনি এই সাফল্যের জন্য বিজেপি সরকারের লক্ষ্যভিত্তিক সংরক্ষণ উদ্যোগকে কৃতিত্ব দেন। আসামের কাজিরাঙা ইলিভেটেড করিডোর প্রকল্পের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি স্মরণ করিয়ে দেন যে ২০১৩ ও ২০১৪ সালের দিকে কাজিরাঙায় প্রায়ই পরপর গণ্ডার শিকারির ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসত।

তিনি বলেন, এই প্রবণতা রোধে সরকার সংরক্ষণ কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে। মোদি বলেন, “প্রকৃতি সুরক্ষিত থাকলে তা নতুন সুযোগও সৃষ্টি করে।” তিনি উল্লেখ করেন, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়ে। কাজিরাঙা ও তার আশপাশের অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে হোমস্টে, কারুশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট সেবা—যেমন গাইডিং—থেকে স্থানীয় মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
আসাম সরকারও বন্যপ্রাণ সুরক্ষাকে শক্তিশালী করা ও টেকসই পর্যটনকে উৎসাহিত করার জন্য প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এই সংরক্ষণ উদ্যোগগুলি প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে। ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং আসামের ইকো-ট্যুরিজম খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাজিরাঙা ইলিভেটেড করিডোর প্রকল্পের ভূমিপুজো উপলক্ষে মোদি এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রকল্পটি বন্যপ্রাণীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে।
এই পরিবেশ-সচেতন জাতীয় সড়ক প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৮৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে কাজিরাঙার মধ্য দিয়ে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ইলিভেটেড ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর, ২১ কিলোমিটার বাইপাস, এবং আগের এনএইচ-৭১৫ (পূর্বতন এনএইচ-৩৭)-এর ৩০ কিলোমিটার অংশ দু’লেন থেকে চার লেনে সম্প্রসারণ। এর লক্ষ্য কাজিরাঙার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা, পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো ও ইকো-ট্যুরিজমকে আরও উৎসাহিত করা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৬,৯৫৭ কোটি টাকার এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে এনএইচ-৩৭–এ দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং মধ্য ও ওপর আসামের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
এর মধ্যে ক্যালিয়াবর-নুমালিগড় অংশের চার লেন নির্মাণ, বিস্তৃত ইলিভেটেড করিডোর এবং জখলাবন্ধা ও বোকাখাতে বাইপাস অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্পটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার সুপারিশ অনুযায়ী নকশা করা হয়েছে। ইলিভেটেড করিডোরের নীচের অংশে বিশেষ খোলা জায়গা রাখা হয়েছে, যাতে বন্যপ্রাণীরা—বিশেষ করে বর্ষায়—কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান এবং করবি আংলং পাহাড়ের মধ্যে নিরাপদে চলাচল করতে পারে।








