
গ্যাংটক(Gangtok)জেলায় পরপর দুটি প্রতারণার ঘটনার মধ্যে দিয়ে ফের স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাইবার জালিয়াতির বাড়তে থাকা হুমকি। অনলাইন মাধ্যমে “সহজে অর্থ উপার্জন”–এর লোভ দেখিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের আশ্বাসে দুই বাসিন্দা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক ফোনকলের মাধ্যমে এই ধরনের প্রতারণা দ্রুত বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

প্রথম ঘটনা ঘটে রানিপুল এলাকায়। এক ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা পান, যেখানে তাকে সহজ উপার্জনের প্রলোভন দেখানো হয়। আগ্রহবশত তিনি নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর শেয়ার করেন। পরে তাকে ফোন করে বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের কথা বলা হয়। খুব অল্প সময়ে দ্বিগুণ ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রথমে আস্থা অর্জনের জন্য তিনি স্বল্প পরিমাণ টাকা পাঠান। এরপর আরও বড় অঙ্কের টাকা পাঠালে লাভ ‘আনলক’ হবে বলে জানানো হয়।
দ্বিতীয়বার টাকা পাঠানোর পর প্রতারক তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং সমস্ত নম্বর ব্লক করে দেয়। এরপরই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। ক্ষতির পরিমাণ ৩৬ হাজার টাকারও বেশি। একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় গ্যাংটকের আরেক বাসিন্দা জানান, তিনি একটি অজানা আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ফোন পান। সেখানেও ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে মোটা লাভের একই আশ্বাস দেওয়া হয় এবং পরে আলোচনাটি হোয়াটসঅ্যাপে নিয়ে যাওয়া হয়।
শুরুতে তিনি অল্প পরিমাণ টাকা দেন। এরপর ‘প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে’ আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা পাঠালেও কোনও লাভ ফেরত পাননি। বরং আরও টাকার দাবি চলতেই থাকে। তখনই তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এই ঘটনার মোট ক্ষতি ২৩ হাজার টাকার বেশি। দুটি অভিযোগই জাতীয় সাইবারক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে নথিভুক্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের পরবর্তী সহায়তার জন্য স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আবারও সতর্ক করে জানিয়েছে, অবাঞ্ছিত ফোনকল, বার্তা বা সামাজিক মাধ্যমের প্রলোভনমূলক অফারের জবাব না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ—বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা অনলাইন ট্রেডিং-সংক্রান্ত কোনও অফার পেলে। অচেনা বা যাচাই না করা কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকার জন্যও জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








